দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার, গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, এখন দায়বদ্ধতার সময়
- আপলোড সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-০২-২০২৬ ১১:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘ দেড় বছর পর অবশেষে বাংলাদেশ আবারও একটি নির্বাচিত সরকার পেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা। এই ঘটনাটি নিছক একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া স¤পন্ন হওয়া নয় - এটি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অনিশ্চয়তা ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের সামনে একটি নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে - নিজেদের প্রতিনিধিকে নিজেরাই বেছে নেওয়ার সুযোগ।
গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গঠিত সরকারই একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ভিত্তি। সেই বিবেচনায় নবগঠিত সরকার কেবল একটি রাজনৈতিক দলের বিজয় নয়, বরং এটি জনগণের প্রত্যাশা, আস্থা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিফলন। এখন এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের সামনে যেমন সুযোগ থাকে, তেমনি দায়িত্বও থাকে বহুগুণ বেশি। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে, তা পূরণ করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা - এসবই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়; এটি একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই বিশ্বাস বজায় রাখতে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনগণমুখী।
এক্ষেত্রে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল গণতন্ত্রকে সুসংহত করে, সরকারের কর্মকা-ে ভারসাম্য আনে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সামনে রয়েছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের নানা প্রয়োজন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন এবং সর্বোপরি জনগণের আস্থা ও ঐক্য।
দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন সময় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের, সময় জনগণের আস্থা অর্জনের। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক নবগঠিত সরকারের অঙ্গীকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়